নিউজ ব্যাংক ২৪. নেট : যশোরের অভয়নগরের কারখানা শ্রমিক কেয়া খাতুনকে এসিড নিক্ষেপ ও হত্যার দায়ে তার সহকর্মী শামীম হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন জেলার একটি আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ মে) যশোরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ নাজমুল আলম এক রায়ে এ আদেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এম ইদ্রিস আলী।
দণ্ডিত শামীম হোসন অভয়নগরের জাফরপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি এখন কারাগারে আটক রয়েছেন। হত্যার শিকার কেয়া খাতুন এক যুগ আগে বিয়ে বিচ্ছেদের পর কন্যাসন্তান নিয়ে তার মামার বাড়ি অভয়নগরের কাদিরপাড়া গ্রামে থাকতেন। এছাড়া আকিজ গ্রুপের এসএএফ লেদার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে শ্রমিক পদে চাকরি করতেন। দণ্ডিত শামিম হোসেনও সেখানে একই পদে চাকরি করতেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, একই কারখানায় কাজ করার সুবাদে কেয়া খাতুনকে প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব দিতেন শামীম হোসেন। এতে রাজি না হওয়ায় কেয়ার ক্ষতি করার ষড়যন্ত্র শুরু করেন তিনি। ২০২১ সালের ২৫ অক্টোবর দুপুরে কেয়া কারখানায় কাজের সময় তাকে বিভিন্ন ধরণের কুপ্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে শামিম। এতে রাজি না হওয়ায় শামীমের হাতে থাকা একটি প্লাস্টিকের মগে রাখা এসিড কেয়ার গায়ে ঢেলে দেয়। এ সময় কেয়া চিৎকার দিলে পাশে থাকা লোহার পাইপ দিয়ে তাকে মারধর করে আহত অবস্থায় পালিয়ে যান শামীম। অন্যকর্মীরা কেয়াকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।
এসিড নিক্ষেপে হত্যার ঘটনায় কেয়ার মামা লুৎফর রহমান মজুমদার বাদী হয়ে শামীমকে আসামি করে অভয়নগর থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় আসামি শামীমকে অভিযুক্ত করে ২০২২ সালের ১১ এপ্রিল আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জয়ন্ত সরকার। দীর্ঘ সাক্ষী গ্রহণ শেষে আসামি শামীম হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে মৃত্যুদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন।