নিউজ ব্যাংক ২৪ ডট নেট : রোজিনা বেগম (২৮) নামক এক নারী র্যাব-১১, নারায়ণগঞ্জ বরাবর গত বুধবার ২রা সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে একটি অভিযোগ করেন যে, গত ১লা সেপ্টেম্বর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দে এক ব্যক্তি নারায়ণগঞ্জের বন্দরের মদনপুর এলাকায় তাদের ভাড়া বাড়ির সামনে হতে তার ৯ বছর বয়সী শিশুকন্যাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
মোবাইল ফোনে অপহরণকারী তার মেয়েকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তার কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে। উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে র্যাব-১১ কর্তৃক গোয়েন্দা নজরদারী ও গোপন অনুসন্ধান শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১১ এর একটি আভিযানিক দল গত শুক্রবার ৪ঠা সেপ্টেম্বর ২০২০ খ্রিষ্টাব্দে দুপুরে ঢাকা জেলার যাত্রাবাড়ী থানাধীন আইডিয়াল স্কুলের গলি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোঃ ওয়াসিম (৩২) নামক এক অপহরণকারীকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামীর ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে হাত-পা বাধা অবস্থায় ভিকটিম শিশুকন্যাকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার চতরংখলা এলাকার মোঃ ফজলুল হকের ছেলে।
গ্রেফতারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, ভিকটিম শিশু কন্যার মা রোজিনা বেগম একজন কারখানা শ্রমিক। রোজিনা বেগম তার কর্মস্থলে আসা যাওয়ার পথে ২ মাস পূর্বে অপহরণকারী মোঃ ওয়াসিমের সাথে পরিচয় ঘটে। পরিচয়ের সূত্র ধরে অপহরণকারী কৌশলে রোজিনা বেগমের ভাড়া বাসা চিনে রাখে। পরবর্তীতে ভিকটিমের মা রোজিনা বেগম নাইট ডিউটিতে থাকা অবস্থায় ফাঁকা বাসার সুযোগ কাজে লাগিয়ে গত ১লা সেপ্টেম্বর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দে সকাল ৭টার ঘটিকায় আসামী ভিকটিম শিশুকন্যাকে ফুসলিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায় এবং ঢাকাস্থ যাত্রাবাড়ীর একটি ভাড়া বাসায় জিম্মি করে রাখে।
সে ভিকটিম শিশুকন্যাটিকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করে ছবি তুলে ভিকটিম শিশু কন্যার মায়ের মোবাইলে প্রেরণ করে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এর প্রেক্ষিতে ভিকটিম শিশুকন্যার মা র্যাব-১১ বরাবর একটি অভিযোগ দাখিল করে। উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে র্যাব-১১ এর একটি বিশেষ গোয়েন্দা দল কর্তৃক গোয়েন্দা নজরধারীর মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা পেয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শুক্রবার ৪ঠা সেপ্টেম্বর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দে দুপুরে যাত্রাবাড়ী হতে অপহরণকারী মোঃ ওয়াসিম’কে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তার ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে হাত-পা বাধা অবস্থায় ভিকটিম শিশুকন্যাকে উদ্ধার করা হয়।
উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে সে ভিকটিম শিশু কন্যাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা এবং আটকে রেখে ৩দিন ধরে যৌন নির্যাতন করার কথা স্বীকার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।