নিউজ ব্যাংক ২৪ ডট নেট : মহান শিক্ষা দিবস উপলক্ষে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ-সাম্প্রদায়িকীকরণ বন্ধ, করোনাকলীন সময়ে ছাত্রদের বাসাভাড়া, মেসভাড়া ও স্কুল কলেজের এক বছরের বেতন-ফি মওকুফ করা ও নারায়ণগঞ্জে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে বৃহস্পতিবার ১৭ই সেপ্টেম্বর বেলা ১১ টায় ছাত্র সমাবেশ ও শহরে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশের পূর্বে প্রগতিশীল ছাত্র জোট ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে শহিদদের স্মরণে শহিদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সুলতানা আক্তার। বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শিমুল, অর্থ সম্পাদক মুন্নি সরদার, ফতুল্লা থানা শাখার সংগঠক ফয়সাল আহম্মেদ রাতুল, বন্দর উপজেলার সদস্য সচিব রাকিবুল হাসান রবিনসহ নেতৃবৃন্দ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শিক্ষার সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে জীবন দিয়েছিল মোস্তফা, বাবুল, ওয়াজিউল্লাহসহ নাম না জানা আরও অনেকে। সেই থেকে বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ এই দিনটাকে শিক্ষা দিবস হিসেবে শ্রদ্ধার সাথে পালন করে আসছে। ১৯৬২ থেকে ২০২০ সাল। সময় গড়িয়েছে ৫৮ বছর। কিন্তু স্বাধীনদেশের শাসকগোষ্ঠীর শিক্ষাসংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি বদলায়নি। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রণীত বিভিন্ন সময়ে শিক্ষানীতি পর্যলোচনা করলে এ চিত্র দেখা যাবে। ১৯৭২ সালের ড. কুদরত-ই খুদার নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষানীতি প্রণীত হয়। শিক্ষানীতির শুরুতে কিছু ভালো কথা থাকলেও শিক্ষা সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গি একই থেকে যায়। সেখানেও শিক্ষা সম্পর্কিত বক্তব্য ছিল ’শিল্পে মূলধন বিনিয়োগকে আমরা যে নজরে দেখি অনেকটা সেই নজরে শিক্ষা বাবদ অর্থ ব্যয়কে দেখার যৌক্তিকতা প্রতীয়মান হয়।
মাধ্যমিক ও কলেজ শিক্ষা সম্পর্কে আমরা সুপারিশ করি যে, এর ব্যয়ের শতকরা ৫০ ভাগ ছাত্র বেতন হতে আদায় করা হোক এবং অন্যান্য উৎস থেকে যা পাওয়া যাবে তাসহ সরকার বাকি ৫০ ভাগ বহন করুক।’ অর্থাৎ শিক্ষাকে ক্রমাগত ব্যয় বহুল ও সংকুচিত করার উদ্দেশ্য নিয়েই এই শিক্ষানীতি তৈরী করা হয়। পরবর্তীতে শিক্ষা সংকোচনের এই দৃষ্টিভঙ্গিতেই শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালিত হয়, যার ধারাবাহিকতা এখনও বিদ্যমান। এর সাথে প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে শিক্ষা বাণিজ্যের নতুন নতুন নমুনা।
স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সকল ক্ষেত্রেই চলছে কোচিং এর রমরমা ব্যবসা। স্কুল যেন সাইনবোর্ড, কোচিং হচ্ছে পাঠদানের প্রধান ক্ষেত্র। কোচিং ব্যবসা, গাইড বই, ডোনেশন-ভর্তি বাণিজ্যে বিপর্যস্ত শিক্ষা ব্যবস্থা। দেশের উচ্চ শিক্ষার প্রধান স্তর – মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং এমনকি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ার খরচ বেড়েই চলেছে। যেখানে সাধারণ মানুষের সন্তানদের শিক্ষা গ্রহণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আরেকদিকে করোনা মহামারীর কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন ধ্বংসের মুখে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের কোন ধরনের উদ্যোগ নেই।
নেতৃবৃন্দ বলেন, এই সংকটে ছাত্রদের বাসা ভাড়া, মেস ভাড়া ও স্কুল কলেজের এক বছরে বেতন ফি মওকুফ করতে হবে । নারায়ণগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহর। এখানে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। কিন্তু এখানে কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়নি। নেতৃবৃন্দ নারায়ণগঞ্জে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি করেন।